সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ , ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারত সমর্থন করে না : জয়সওয়াল তাহিরপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় দিরাই-শাল্লার উন্নয়ন করতে চাই : এমপি নাছির চৌধুরী গ্রামেগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ গ্রাহক সব হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ হাইকোর্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত সুরমা নদীর পাড় যেন ময়লার ভাগাড় সুরমা নদীর ভাঙন অব্যাহত : অস্তিত্ব সংকটে বাউসা-কেশবপুর গ্রাম বেহাল সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল একটি কলেজের অভাবে অনিশ্চয়তায় হাওরের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন থামে মাধ্যমিকেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন রফিকুল ইসলামের প্রতিপক্ষের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস সুনামগঞ্জে গ্যাস সংকট চুলা জ্বলে না, পাম্পে দীর্ঘ লাইন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র সদর উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: নাদের, পলিন, রিপন-দীপঙ্করসহ ৪৮ জন আসামি পূবালী ব্যাংকের ইলেক্ট্রনিক বুথ ও সেল্ফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন

বেড়েছে নদী ভাঙনের তীব্রতা, নিশ্চিহ্নের পথে দোহালিয়া বাজার

  • আপলোড সময় : ২২-০১-২০২৬ ০৯:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০১-২০২৬ ০৯:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন
বেড়েছে নদী ভাঙনের তীব্রতা, নিশ্চিহ্নের পথে দোহালিয়া বাজার
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দোহালিয়া ইউনিয়নের দোহালিয়াবাজার, ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়ক এবং অন্তত ১৭টি গ্রাম বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। অথচ বারবার নদীভাঙনের কবলে পড়লেও এলাকাটি এখনো সরকারি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের তালিকার বাইরে - যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দোহালিয়াবাজার সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে দোকানপাট, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দোয়ারাবাজারের সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোহালিয়া এলাকায় নদীভাঙন নতুন নয়। প্রায় প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করেনি। অথচ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে - দোহালিয়া কেন বারবার উপেক্ষিত, সে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। দোহালিয়াবাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, প্রতিবার ভাঙনের সময় আমরা শুধু আশ্বাস পাই। কাগজে নাকি রিপোর্ট যায়, প্রস্তাব যায় - কিন্তু বাস্তবে কিছুই আসে না। এভাবে আর কতদিন চোখের সামনে সবকিছু ভেঙে পড়তে দেখব? ভাঙনের মুখে থাকা কাঞ্চনপুর গ্রামে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ আগাম গাছ কেটে ফেলছেন, কেউ দোকান ভেঙে মালামাল সরাচ্ছেন। স্থানীয় শিক্ষক মাস্টার জিয়াউর রহমান বলেন, এটি শুধু নদীভাঙন নয়, এটি পরিকল্পিত অবহেলার ফল। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দোহালিয়া বাজারসহ পুরো এলাকা অনাকাক্সিক্ষত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বার বার জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়নি - তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, সুরমা নদীর এই অংশে সঠিক নদীশাসন না থাকায় স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়েছে, যা ভাঙনকে আরও তীব্র করছে। দ্রুত জিওব্যাগ, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবো’র দোয়ারাবাজার উপজেলা এসও সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, দোহালিয়া বাজার সংলগ্ন নদী ভাঙনের বিষয়ে প্রকল্প করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স